

অল্প আমলে বেশী
নেকী
![Image may contain: text that says "দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান চাওয়া حَسنَة الآخِرَة وفِي حَسَنَةَ الدُّنيا فِي آنِنَا رَبَّنَا النّارِ عَذَاب وَقِنَا উচ্চারণঃ রব্বানা আ-তিনা- ফিদ্দুনিয়া- হাসানাতাঁও- ওয়াফিল আঁ-খিরাতি হাসানাতাঁও- ওয়াক্কিনা- আ'যা-বান্না-র। অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [সূরা আল বাকারাহ- ২:২০৯] সত্যে অন্বেষণে... Dawaguidefb dawaguide dawaguide.info"](https://scontent.fcgp3-1.fna.fbcdn.net/v/t1.0-0/p526x296/117644337_724367018419400_690857249511658738_o.jpg?_nc_cat=102&_nc_sid=730e14&_nc_ohc=VbbWJdglJ1UAX9KVWVC&_nc_ht=scontent.fcgp3-1.fna&_nc_tp=6&oh=f501863a04d7f2fc091d48ed4afa21e6&oe=5F63FF4A)


অল্প আমলে বেশী নেকী

রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) ফরয সালাত শেষ করে যেই ১৩টি দোয়া জিকির করতেনঃ
১. “আসতাগফিরুল্লা-হ”
- ৩ বার ।(ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪ)
অর্থঃ হে
আল্লাহ!আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
২.অর্থঃ হে
আল্লাহ্! তুমি শান্তিময়, তোমার
কাছ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়। তুমি বরকতময়, হে
পরাক্রমশালী ও মর্যাদা প্রদানকারী।
সাওবান (রাঃ)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন “রাসুল
(সাঃ) যখন সালাম ফেরাতেন তখন তিনি তিনবার ইস্তেগফার পড়তে্ন অর্থাৎ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন। তারপর বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম”। -মুসলিম ১/২১৮, আবু দাউদ ১/২২১
৩.
لاَ إِلهَ إِلاَّ الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ:-
“ লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহ্দাহু
লা শারীকা লাহ্, লাহুল মুলকু অলাহুলহামদু অহুয়া আলা
কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ:-
আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা
এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। – ১ বার।
৪.
اَللّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الَجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ:-
আল্লা-হুম্মা লা মা-নিয়া লিমা আ’ত্বাইতা, অলা মু’তিয়া
লিমা মানা’তা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থ-
হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই।
আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ ,
মিশকাত ৯৬২ নং) – ১ বার।
৫.
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِالله
উচ্চারণ:-
লা-হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ্।
অর্থ:-
আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার শক্তি নেই।(মুসলিম, সহীহ , মিশকাত ৯৬৩ নং) – ১ বার।
৬.
لآ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ
উচ্চারণ:-
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অলা না’বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু লাহুন্নি’মাতু অলাহুল
ফায্বলু অলাহুস সানা-উল হাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু
মুখলিস্বিনা লাহুদ্দ্বীনা অলাউকারিহাল কা-ফিরুন।
অর্থ-
আল্লাহ ব্যতীত কেউসত্য উপাস্য নেই। তাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদত করি না, তাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাঁরই
যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাঁরই যাবতীয় সুপ্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁরই উপাসনা
করি, যদিও কাফেরদল তা অপছন্দ করে। (মুসলিম, সহীহ , মিশকাত ৯৬৩ নং) – ১ বার।
৭.
আয়াতুল কুরসী (সুরা বাক্বারা আয়াতঃ ২৫৫) ১ বার।
আবু
উমামা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ‘আয়াতুল কুরসী পাঠ করে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা
থেকে বিরত রাখতে পারবেনা”।(নাসায়ী, হাদীস সহীহ, সিলসিলাহ সহিহাহ-হাদিস ৯৭২)
৮.
আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর
৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ে এবং ১০০ বার পূর্ণ করার
জন্য একবার “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ দাহু
লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর”
পড়ে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া
হয়, যদিও তা সাগরের ফেনাপুঞ্জের সমতুল্য হয়।
(মুসলিম-১২২৮)।
৯.
সুরা ইখলাস,ফালাক্ব ও নাস ১ বার করে।
(আবু দাঊদ২/৮৬, সহীহ তিরমিযী ১/৮, নাসাঈ ৩/৬৮)
১০.
“আল্লাহুম্মা আ ই’ন্নী আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হু’সনি ইবাদাতিকা” ১বার।
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻋِﻨِّﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺫِﻛْﺮِﻙَ، ﻭَﺷُﻜْﺮِﻙَ، ﻭَﺣُﺴْﻦِ ﻋِﺒﺎﺩَﺗِﻚَ
অর্থঃ
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার কৃতজ্ঞতা এবং তোমার সুন্দর ইবাদত করার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য কর”। -আবু দাউদ ১/২১৩।
১১.
اَللّهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
উচ্চারণ:-
আল্লা-হুম্মা ক্বিনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবা-দাক। – ১ বার।
অর্থ:-
হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবে সেদিনকার আযাব থেকে
আমাকে রক্ষা করো। (মুসলিম)
১২.
হযরত আব্দুর রহমান বিন গানম (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামায থেকে ফিরে বসা
ও পা মুড়ার পূর্বে (অর্থাৎ যেভাবে বসে নামাজ শেষ করেছে সেভাবে বসেই, এদিক অদিক ঘুরা বা অন্য রকম করে বসার পূর্বেই) নিম্নোক্ত দোয়াটি ১০ বার
পাঠ করবে,
«لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ»
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ইয়ুহ্য়ী ওয়াইয়ূমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর)।
“একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর
কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তাঁর। তিনিই
জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান”।
আল্লাহ্
তার আমলনামায় প্রত্যেকবারের বিনিময়ে ১০টি নেকি লিপিবদ্ধ করেন, ১০টি গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত করেন, প্রত্যেক
অপ্রীতিকর বিষয় এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে (ঐ যিকির) রক্ষামন্ত্র হয়, নিশ্চিতভাবে শির্ক ব্যতীত তার অন্যান্য পাপ ক্ষমার্হ হয়। আর সে হয় আমল
করার দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, তবে সেই ব্যক্তি
তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে যে তার থেকেও উত্তম যিকির পাঠ করবে”(আহমাদ,সহীহ তারগীব-হাদিস ৪৭২)
১৩.
ফজরের সলাতের পর ১ বার
اَللّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْماً نَّافِعاً وَّرِزْقاً طَيِّباً وَّعَمَلاً مُّتَقَبَّلاً
উচ্চারণ:-
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান না-ফিআ, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়িবা, ওয়া আমালান
মুতাক্বাব্বালা।
অর্থ-
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ফলদায়ক শিক্ষা,হালাল জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।
ফজরের
নামাযের পর এটি পঠনীয়। (ইবনে মাজাহ্, সুনান১/১৫২, ত্বাবারানী সাগীর, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১১১)
“আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
‘‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির উপর সৃষ্টি
করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সাদকা রয়েছে।) সুতরাং যে
ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলল,
‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’
বলল, মানুষ চলার রাস্তা থেকে পাথর,
কাঁটা অথবা হাড় সরাল, কিম্বা ভাল কাজের
আদেশ করল অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল, (এবং সব মিলে ৩৬০
সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল), সে ঐদিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা করল
যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিল।’’(সহিহ মুসলিম হাদিস-২২২০, হাদিস একাডেমী)
রাসূল
(সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যেক
ফরয স্বলাতের পর-
“সুবহা-নাল্লাহ” (আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান)”«سُبْحَانَ اللَّه ((৩৩
বার
“আলহামদুলিল্লাহ” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য)
الْحَمْدُ لِلَّهِ، (৩৩ বার)
“আল্লা-হু আকবার” (আল্লাহ সবচেয়ে বড়)” اللَّهُ أَكْبَرُ (৩৩
বার)
তারপর
১ বার নিম্নোক্ত দোয়া বলে
« لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা
কুল্লি শাই’ইন কাদীর)।
“একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর
কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল
প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
তাহলে
ঐ ব্যক্তির সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্যও হয়। (সহিহ মুসলিম হাদিস-১২৩৯, হাদিস একাডেমী)



কবরে আলো পাওয়ার আমল কী?
অন্ধকার কবরে আলো পাওয়ার আমল হলো
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। হাদিসে আছে ‘নামাজ নূর বা আলো’
কবরে ও হাশরের ময়দানের আলো হবে নামাজ। নেককারদের জন্য জান্নাতে
আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা হয়। বেনামাজি হলে তার কবরে কী ধরনের
আজাব হবে এ সম্পর্কে হাদিসে আছে, বেনামাজির কবরে তিন প্রকারের শাস্তি হবে : ১।
কবর তার জন্য এমন সংকীর্ণ হবে যে, এক পাশের বুকের হাঁড়
আরেক পাশে ঢুকে যাবে। ২। তার কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। ৩। তার কবরে এমন একটি
সাপ নিযুক্ত করা হবে যার চক্ষু হবে আগুনের। আর নখগুলো হবে লোহার। তার প্রত্যেকটি
নখ লম্বা হবে একদিনের দূরত্বের পথ। সাপের আওয়াজ হবে বজ্রের ন্যায় বিকট। সাপ ওই
বেনামাজিকে বলতে থাকবে ‘আমাকে আমার রব (আল্লাহ) তোর ওপর
নিযুক্ত করেছেন যাতে ফজরের নামাজ নষ্ট করার কারণে সূর্যোদয় পর্যন্ত তোকে দংশন করতে
থাকি। জোহরের নামাজ নষ্ট করার কারণে আসর পর্যন্ত দংশন করতে থাকি। আসর নামাজ নষ্ট
করার কারণে মাগরিব পর্যন্ত। আর মাগরিব নামাজ নষ্ট করার কারণে এশা পর্যন্ত। আর এশার
নামাজ নষ্ট করার কারণে ফজর পর্যন্ত তোকে দংশন করতে থাকি।’ এই সাপ যখনই তাকে একবার দংশন করবে তখনই সে সত্তর হাত মাটির নিচে
ঢুকে যাবে (উঠিয়ে আবার দংশন করবে) এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব হতে থাকবে।
নেককার ও
বদকারের কবরের অবস্থা একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, হজরত বারা
ইবনে আজিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রসুল (ﷺ) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তির কবরে দুজন ফেরেশতা আসে ও তাকে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা
করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেবে,
আমার রব আল্লাহ। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে, তোমার দীন কী? সে উত্তরে বলবে, আমার দীন হচ্ছে ইসলাম। তারা এবার তাকে জিজ্ঞাসা করে, ওই ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো
হয়েছিল? সে উত্তর দেবে ইনি হচ্ছেন আমাদের রসুল (ﷺ)। তারা এবার তাকে জিজ্ঞাসা করবে (এই উত্তরগুলো) তুমি কীভাবে
জানলে? সে বলবে আমি আল্লাহর কিতাব থেকে জেনেছি এবং তাঁর
ওপর ইমান এনেছি। তখন রসুল (ﷺ)) বলেন, এটাই হচ্ছে
আল্লাহতায়ালার ওই বাণীর মর্ম, যেখানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের দৃঢ় বাক্যের ওপর দৃঢ় রাখেন পার্থিব জীবনে ও
আখেরাতে’ রসুল (ﷺ) বলেন, তখনই আসমান থেকে এক ঘোষণাকারী ডাক দিয়ে বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও।
তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার দিকে জান্নাতের দরজা খুলে দাও। তখন তার
জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তার কাছে জান্নাতের শান্তি ও সুঘ্রাণ আসতে
থাকে। কবরকে তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
এরপর রসুল (ﷺ) বদকারের মৃত্যুর কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, বদকারকে কবরে রাখার পর, তার কাছে দুজন ফেরেশতা
এসে তাকে বসায়। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে, তোমার রব কে?
সে উত্তরে বলে, হায়; হায়; আমি তো জানি না। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে,
তোমার দীন কী? সে বলে, হায়; হায়; আমি তো
জানি না। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করে ওই ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল?
সে বলে, হায়; হায়;
আমি তো জানি না। তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী ডাক দিয়ে বলেন,
সে মিথ্যা বলেছে, তাই তোমরা তাকে
জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে
দরজা খুলে দাও। রসুল (ﷺ) বলেন, তখন তার কাছে
জাহান্নামের উত্তাপ ও গরম বাতাস আসতে থাকে। আর কবরকে এমন সঙ্কীর্ণ করে দেওয়া হয় যে,
তার পাঁজরের হাড়গুলো একটা আরেকটার মধ্যে ঢুকে যায়। তারপর তার
জন্য একজন অন্ধ ও বধির ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়। ফেরেশতার হাতে থাকে লোহার এমন গদা,
যা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করলে পাহাড়ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। সে তাকে
এটা দিয়ে এমন আঘাত করে যে, জিন ও ইনসান ব্যতীত
পূর্ব-পশ্চিমের সবকিছুই এ আওয়াজ শুনতে পায়। ফলে সে মাটি হয়ে যায়। অতঃপর তার দেহে
আবার আত্মা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস
নং-১৮৫৫৭, আবু দাউদ শরিফ, হাদিস
নং-৪৭৫৫)
দ্বীন আল ইসলামঃ দু’আ-কালামের অফুরন্ত ভান্ডার
দোয়ার গুরুত্ব ও ফাজিলাত
আমরা কেবল তোমারই ইবাদত
করি এবং তোমারই সাহায্য চাই’ কথাটি কোরআন কারিমে সূরা ফাতিহার চতুর্থ আয়াতের মাধ্যমে তিনিই আমাদের
শিখিয়েছেন। রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়া ইবাদতের মগজ। তিনি আরও বলেছেন, দোয়াই ইবাদত। (বুখারি ও মুসলিম)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কিছু চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৫৬, হাদিস নম্বর: ৩৩৭৩)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কিছু চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৫৬, হাদিস নম্বর: ৩৩৭৩)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার জন্য দোয়ার দ্বার খোলা হয়েছে (অর্থাৎ যার দোয়া করার তাওফিক হয়েছে), তার জন্য রহমতের দ্বার খোলা হয়েছে। আল্লাহর কাছে যেসব দোয়া চাওয়া হয়, তন্মধ্যে তাঁর কাছে সর্বাধিক পছন্দীয় হলো আফিয়াত; অর্থাৎ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করা।’ (জামে তিরমিজি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৫৫২, হাদিস নম্বর: ৩৫৪৮)।
হজরত সালমান ফারসি (রা.)
থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু তাকদিরের
লিখনকে ফেরাতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া অন্য কোনো বস্তু হায়াত বৃদ্ধি করতে পারে
না।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৪৮, হাদিস নম্বর: ২১৩৯)। তিনি
আরও বলেন, ‘তাকদিরের ফয়সালাকে কেবল দোয়াই পরিবর্তন করতে
পারে।’
যাদের দোয়া কবুল
পিতা-মাতার দোয়া সন্তানের
জন্য। সন্তানের দোয়া পিতা-মাতার জন্য। মুসাফিরের দোয়া। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির
দোয়া। মজলুম (অত্যাচারিত-নির্যাতিত-নিপীড়িত) ব্যক্তির দোয়া। (আবু দাউদ, ১: ১৫৩৬)। হাজির দোয়া (হজের সময় ও
হজ সম্পাদনের পর ৪০ দিন পর্যন্ত)। মুজাহিদের দোয়া। রোগীর দোয়া। মুসলমান ভাইয়ের
জন্য তার অনুপস্থিতিতে অন্য মুসলমানের দোয়া। (মিশকাত, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৬০; মুসলিম, ৪: ২৭৩৩)। রোজাদারের দোয়া
ইফতারের সময়। (তিরমিজি, ৪: ২৫২৬)। অসহায় ও
দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দোয়া। (সূরা নামল, আয়াত:
৬২)। ইমামে আদিলের (সুশাসক ও ন্যায়বিচারক) দোয়া। (তিরমিজি, ৪: ২৫২৬)। বন্ধুর জন্য বন্ধুর দোয়া। নেককার ব্যক্তির দোয়া।
দোয়ার আদব
বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত
দোয়ার আদবসমূহ: দোয়ার শুরু ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ-সানা) এবং রাসুল
(সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠ করা। (তিরমিজি, ৫: ৩৪৭৬)। দোয়ার আগে কোনো নেক আমল (নামাজ, সদকা ইত্যাদি) করে নেওয়া অথবা সালাতুল হাজত পড়ে নেওয়া। নিজ নেক আমলের
অছিলা দিয়ে দোয়া করা। (বুখারি, ৮: ৫৯৭৪)। শুধু
দুনিয়ার জন্য দোয়া না করা। (সূরা বাকারা, আয়াত:
২০১)। কাকুতি-মিনতিসহ গোপনে দোয়া করা। (আরাফ, আয়াত:
৫০)। অন্তরে ভয় ও আশা নিয়ে দোয়া করা। (সূরা আরাফ, আয়াত:
৫৬)। শুধু মুসিবতের সময়কেই দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট না করা। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ১২, তিরমিজি, ৫: ৩৩৮২)।
স্বাভাবিক ভাব ও সাধারণ
দোয়া করা, অর্থাৎ ভাষায়
ইচ্ছাকৃত ছন্দ ও মাধুর্যতা না আনা। (বুখারি, ৮:
৬৩৩৭)। দোয়ায় হঠকারিতা না করা, কারণ দোয়া হলো
আবেদন, দাবি নয়। নিজের অকল্যাণ আর অপরের অমঙ্গলের
দোয়া না করা। (বুখারি, ৮: ৬০১০)। পাপের শাস্তি
দুনিয়াতে না চাওয়া; বরং ক্ষমা চাওয়া। (মুসলিম)।
জান-মাল ও সন্তানসন্ততির জন্য বদদোয়া (অভিশাপ) না করা। (মুসলিম)। নিজের মৃত্যুর
জন্য দোয়া না করা। (বুখারি, ৭: ৫৬৭২)। একই দোয়া
বারবার (অন্তত তিনবার) করা। ক্রন্দন করা কিংবা ক্রন্দনের অবস্থা আনয়ন করা।
গুনাহসমূহ থেকে তওবা করে দোয়া করা।
নিজের দীনতা-হীনতা ও
অসহায়ত্ব প্রকাশ করা। দোয়ার মধ্যে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা। দোয়ায় সব
মুসলমানকে শামিল করা।
প্রথমে নিজের জন্য, অতঃপর পিতা-মাতা, অতঃপর স্ত্রী-সন্তান, অতঃপর সব মুমিন
নর-নারীর জন্য দোয়া করা। সম্মিলিত দোয়ার ক্ষেত্রে শুধু নিজের জন্য দোয়া না করে
সব মুসল্লিকে দোয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা। অর্থাৎ ‘আমি’-এর পরিবর্তে ‘আমরা’ এবং ‘আমার’ এর পরিবর্তে ‘আমাদের’ শব্দ ব্যবহার করা। (তিরমিজি, ২: ৩৫৭)।
দোয়াকারী ও দোয়া শ্রবণকারী উভয়ের জন্য ‘আমিন’ বলা।
দোয়ার মধ্যে মাসনূন দোয়াসমূহের শব্দাবলি অবলম্বন করা। নিজের ছোট-বড় সব প্রয়োজন একমাত্র আল্লাহর কাছে চাওয়া। আসমাউল হুসনারঅছিলা দিয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব। (আরাফ: ১৮০)। ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া করা। (তিরমিজি, ৫: ৩৪৭৫)। ‘আমিন’ বলে দোয়া শেষ করা। (আবু দাউদ, ১: ৯৩৮)।
সুখে-দুঃখে দোয়া সব সময়ের দোয়ার ফজিলতঃ
দোয়া দ্বারা যেমন মুসিবত
দূর হয়, তেমনি মুসিবত আসাও
বন্ধ হয়। তাই দোয়া কেবল বিপদ-আপদের সময় নয়, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের
সময়ও করা উচিত। অর্থাৎ শোকর গোজারি করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তির কাছে এটা পছন্দ হয় যে আল্লাহ তাআলা বিপদ-আপদের সময় তার
দোয়া কবুল করবেন, তবে সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের
সময়ও দোয়া করে। তিনি আরও বলেন, দোয়া মুমিনের
হাতিয়ার বা অস্ত্র, দীনের খুঁটি এবং আসমান ও জমিনের
নূর। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে
যে দুঃখের সময় যেন আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন, তবে সে যেন সুখের সময় অধিক পরিমাণে দোয়া করে।’ (জামে তিরমিজি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৬২, হাদিস নম্বর: ৩৩৮২)।
মুমিনের কোনো দোয়া বিফলে যায় না
আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া
করলে তা কখনো বিফলে যায় না। কখনো দোয়ায় প্রার্থিত জিনিসটি পাওয়া যায়, আবার কখনো তা জমা করে রাখা হয়
পরকালের জন্য; কখনো দোয়ার বরকতে বিপদ কেটে যায় বা
অন্য কিছু লাভ হয়। দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী হয়ে দোয়া করতে হবে, নিরাশ বা হতাশ হওয়া যাবে না। হাদিস শরিফে আছে, ‘যখন কোনো মুসলমান দোয়া করে, যদি তার
দোয়ায় গুনাহের কাজ কিংবা সম্পর্কচ্ছেদের আবেদন না থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তিনটি প্রতিদানের যেকোনো একটি অবশ্যই দান করেন।
সঙ্গে সঙ্গে দোয়া কবুল করেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত জিনিস দিয়ে দেন। দোয়ার কারণে
কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে হেফাজত করেন। তার আখিরাতের কল্যাণের জন্য তা জমা করে
রাখেন।’ (আহমাদ, ৩: ১৮, হাদিস: ১১১৪৯)
হাদিস
শরিফে আছে, কিয়ামতের দিনে
হাশরের ময়দানে কোনো সাধারণ মুসলমান দেখতে পাবে তার অঢেল নেকি জমা আছে; কিন্তু সে বুঝতে পারছে না এসব নেকি কোথা থেকে এসেছে। তখন সে
ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে: আমার এসব নেকি কোথা থেকে এসেছে? ফেরেশতাগণ উত্তর দেবেন, আপনি বিভিন্ন
সময়ে যেসব দোয়া করেছেন, তার কিছু কিছু আল্লাহ নগদে
দিয়েছেন আর
কিছু জমা রেখেছেন, সেগুলো নেকিরূপে আপনার আমলনামায় যোগ করা হয়েছে। তখন সেই ব্যক্তি বলবে, কতই না উত্তম হতো যদি আমার কোনো দোয়াই দুনিয়ার জন্য কবুল না হয়ে আখিরাতের জন্য জমা থাকত। (মুসলিম, তিরমিজি)।
কিছু জমা রেখেছেন, সেগুলো নেকিরূপে আপনার আমলনামায় যোগ করা হয়েছে। তখন সেই ব্যক্তি বলবে, কতই না উত্তম হতো যদি আমার কোনো দোয়াই দুনিয়ার জন্য কবুল না হয়ে আখিরাতের জন্য জমা থাকত। (মুসলিম, তিরমিজি)।
ফরজ নামাজ পরবর্তী জিকির ও দোয়াসমূহ
মুফতি মাহফূযুল হক, অতিথি লেখক, ইসলাম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

![Image may contain: text that says "হাদীসে কুদসী রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন- "হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদতে মন দাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না [তিরমিযী ২৬৫৪, ইবনে মাজাহ ৪১০৭]"](https://scontent.fcgp3-1.fna.fbcdn.net/v/t1.0-0/p552x414/118281032_334894304304168_8155626001279940138_n.jpg?_nc_cat=108&_nc_sid=825194&_nc_ohc=iHDsLZRb7soAX8Eot7h&_nc_ht=scontent.fcgp3-1.fna&_nc_tp=6&oh=7988c4b7abecc094e029d669802efe2e&oe=5F656CB8)
ফরজ নামাজের পরে বিভিন্ন জিকির ও দোয়া-দরুদ পাঠ করা মোস্তাহাব। আলেমদের অভিমত হলো, দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময় এটা।
আবার অনেককে দেখা যায়, ফরজ নামাজের পর অমনোযোগিতা ও অবহেলার সঙ্গে দোয়া করে থাকে। এমন আচরণ চরম ধৃষ্ঠতা ও বেয়াদবি। বরং ফরজ নামাজের পর মনোযোগের সঙ্গে জিকির ও দোয়া করে নিজের দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করা উচিৎ।
অনেক হাদিসে এ সময় জিকির ও দোয়া করার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আবার অনেক হাদিসে শিখানো হয়েছে ফরজ নামাজের পর কোন কোন জিকির ও দোয়া করতে হবে।
একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল, কোন দোয়া কবুলের অধিক সম্ভাবনা রাখে? তিনি ইরশাদ করলেন, গভীর রাতের দোয়া আর ফরজ নামাজ পরবর্তী দোয়া। -সহিহ তিরমিজি: ৩৪৯৯
বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিম্নবর্ণিত দোয়াসমূহ পাঠ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ইসলামি স্কলাররা।
এক.
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
এ বাক্যটি তিন বার পাঠ করতে হয়। -সহিহ মুসলিম: ১৩৬২
দুই.
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াজাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার গুণবাচক নাম সালাম। তুমি শান্তিদাতা। তুমি কল্যাণময়। তুমি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।
উল্লেখিত দোয়াটি এক বার পাঠ করতে হয়। -মুসলিম শরিফ: ১৩৬২
তিন.
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লা-মানিয়া লিমা আতাইতা। ওয়া-লা মুতিয়া লিমা মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ জাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সব কিছুর ওপর সামর্থ্যবান। আপনি দিলে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। আপনি না দিলে কেউ দিতে পারে না, কেউ উপকার করতে পারে না।
এ দোয়াটি একবার পাঠ করতে হয়। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম
চার.
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ
الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা হাউলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ওয়া লা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু। লাহুন নি’মাতু ওয়া লাহুল ফাজলু। ওয়া লাহুস সানাউল হাসানু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসিনা লাহুদ দ্বীনা। ওয়া লাউ কারিহাল কাফিরূন।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থ্যবান। নেক কাজের তওফিক দান করার ক্ষমতা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। গুনাহ থেকে বিরত রাখার ক্ষমতা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ইবাদত আমি করি না। প্রাচুর্য দেওয়ার ও অনুগ্রহ করার ক্ষমতা তার। সকল প্রশংসা ও সৌন্দর্য তার। আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা একনিষ্ঠ ভাবে তার দ্বীন মেনে চলি। যদিও অবিশ্বাসীরা তাতে অসন্তুষ্ট হয়।
এই দোয়াটিও এক বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। -সহিহ মুসলিম: ১৩৭১
পাঁচ.
প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার ও আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পাঠ করা। -সহিহ মুসলিম: ১৩৭৭
অথবা সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার। এর পর ১ বার
لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থ্যবান। -সহিহ মুসলিম: ১৩৮০
ছয়.
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا
وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল জুবনি। ওয়া আউযু বিকা আন আরুদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি। আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া। আউজু বিকা মিন আজাবিল কাবরি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই। বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা থেকে আশ্রয় চাই। দুনিয়ার ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই।
বর্ণিত দোয়াটিও এক বার পাঠ করতে হয়। -সহিহ বোখারি: ২৮২২
সাত.
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস এক বার করে তেলাওয়াত করা। -সুনানে আবু দাউদ: ১২২৫
আট.
اَللَّهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শোকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জিকির করার সুযোগ দাও। তোমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের সুযোগ দাও। সুন্দরভাবে তোমার ইবাদতের সুযোগ দাও।
এই দোয়াটিও এক বার করে পাঠ করতে হয়। -সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৪


যারা ২ বেলা খেতে পায়না ঠিক মতো
তারাও আজ কুরবানীর গোশত খাবে ইনশা আল্লাহ।
এটাই আমার ধর্ম ইসলাম..
সৌজন্যেঃ Hm Ifat Islam
Dhaka, Bangladesh and works for Ifat Media
Studied at Graphic Design LIVE Class








Comments
Post a Comment