Skip to main content

অবাধ্য সন্তানকে বাধ্যকরণের তদ্বির

অবাধ্য সন্তানকে বাধ্যকরণের তদ্বির



ভাল-মন্দ, রাত-দিন, দুঃখ, সুখ নিয়ে দুনিয়ার জীবন জিন্দেগী। এই নিয়ে কারো সন্তান খুব শান্ত-শিষ্ট, ভদ্র-অমায়িক, মেধাবী হতে পারে যেমন, তেমনি কারো সন্তান তার উল্টা অশান্ত, অভদ্র হতে পারে-যা অস্বাভাবিক নয়। মানুষের কাজ চেষ্টা করা। কামিয়াবী অআল্লাহ তায়ালার কুদরতি হাতে। সবাই চান ধনী হতে। রাত-দিন রেয়াজত মেহনতও করে থাকেন। এর পর কেহ কামিয়াবী হন, কেহ হন না। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কামিয়াবী দান করেন নিজ অনুগ্রহে। কাউকে দেন না ঈমানী পরীক্ষার জন্য। কিংবা আখেরাতে দেয়ার জন্য। যার তাকদীরে যদি যা লেখা নাই, শত চেষ্টা করেও তা হাসিল করা সম্ভবপর নয়। অন্যদিকে যার তাকদীরে লেখা আছে, বিনা চেষ্টাতে তা হাসিল হয়ে যায়।  পবিত্র হাদীস মতে, একমাত্র দোয়া-কালামের মাধ্যমে তাকদীরের লিখন বদলানো যায়। যেমন, অবাধ্য সন্তান তাকদীরের লিখন। তবে দোয়া-কালামের সাহায্যে অবাধ্য সন্তান-কে বাধ্য করা সম্ভবপর ইনশাআল্লাহ।

 

নিম্নে কতিপয় দোয়া-কালাম উল্লেখ করা হলোঃ

অবাধ্য সন্তানের জন্য দোয়া

উচ্চারণ : (আল্লাহুম্মা) আসলিহলি ফি জুররিয়্যাতি, ইন্নি তুবতু ইলাইকা ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমিন।

অর্থ : (হে আল্লাহ), আমার বংশধরদের সংশোধন করে দাও, অবশ্যই আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।

উপকার : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজেই তাঁর প্রিয় বান্দাদের এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।

সূত্র : সুরা আহকফ, আয়াত : ১৫

 

শিশুর জিদ দূর করার আমল ও দোয়া!হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী


أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

উচ্চারণ: আফাগাইরা দীনিল্লাহি ইয়াবগুনা ওয়ালাহু আসলামা মান ফিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি তাউআন ওয়া কারহান; ওয়া ইলাইহি ইয়ুরজাঊন।

অর্থ: তারা কি আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য জীবন ব্যবস্থা তালাশ করছে? নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তার অনুগত হবে। সবাই তার কাছে ফিরে যাবে। – সূরা আল ইমরান: ৮৩

ফজিলত: যে ব্যক্তির সন্তান বা কোন প্রাণী তাকে কষ্ট দেয়, সে যেন তার কানে সূরা আল ইমরানের ৮৩ নং আয়াত পড়ে। -আল মুজামুল আউসাত লিত্ তাবারানি: ৬৪

আমল: সন্তানের অতিরিক্ত জিদ থাকলে, কথা না শোনলে, কথা না মানলে প্রতিদিন ৭ বার সন্তানের কপালের উপরিভাগের চুলে হাত রেখে এ আয়াতখানা পাঠ করে তার চেহারা ও কানে ফুঁ দিলে- জিদ কমে আসে। এ আমল নূন্যতম ২১ দিন লাগাতার করতে হয়।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন ।

সন্তান অবাধ্য— এই অভিযোগ নেই এমন বাবা-মা খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অবাধ্য ছেলে বা মেয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে আত্মীয় বা বন্ধু মহলে আলোচনাও কম হয় না। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, কেন কথা শোনে না আপনার সন্তান? তা কি কেবলই তার দোষ, না কি সেখানে কোনও ফাঁক থেকে যাচ্ছে আপনার ক্ষেত্রেও?

সন্তানকে উপযুক্ত করে লালন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা ধারণা করেন, বাচ্চারাও আমাদের মতো। আমরা যা বুঝি তারাও তা বোঝে বা আমরা যা পছন্দ করি এরাও তাই পছন্দ করবে। এটা বুঝি না যে, বাচ্চা যদি আমার মতোই বুঝত তাহলে তো সে বাচ্চা হতো না। এজন্যে সে যেভাবে বুঝবে তাকে সেভাবেই বুঝাতে হবে।

এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ককে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও মমতাপূর্ণ করা এবং সন্তানকে সবসময় আদেশ-নির্দেশ না দিয়ে উদ্বুদ্ধ করলে, পরিশ্রমী এবং কষ্টসহিষ্ণু করে তুললে। সন্তান আপনার কথাই শুনবে।

সন্তানকে কথা শুনাতে যা করবেন:
১. তিরস্কার বা সারাক্ষণ আদেশ-নির্দেশ করতে থাকলে সন্তান ভাবতে পারে যে আপনি বোধ হয় তার প্রতিপক্ষ। তাই সন্তানকে তিরস্কার থেকে বিরত থাকুন। কারণ আপনি সন্তানের বন্ধু-এই অনুভূতিটি তার বিকাশের জন্যেই জরুরি। আর বড়দের মতো ছোটদের জন্যেও এই ব্যাখ্যাটা জরুরি যে সে কেন কাজটি করবে।

২. আপনার সন্তানকে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে বোঝেন: যত আপনার সন্তান বুঝবে যে আপনি তাকে বোঝেন তত সে আপনার অনুগত হবে। আপনার কথা শুনবে। অতএব তাকে শোনানোর জন্যে আগে তাকে শুনুন। তার কথায় মনোযোগ দিন। তাকে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে বোঝেন।

৩. সন্তানের ব্যাপারে একমত হোন: সন্তানের ব্যাপারে বাবা-মার ঐকমত্য গুরুত্বপূর্ণ। একই ব্যাপারে বাবা-মা ভিন্ন মত দেবেন না। এতে সন্তান বিভ্রান্ত হয়। আগেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নিন। আর কোনো ব্যাপারে দ্বিমত হলে তা নিয়ে কখনো সন্তানের সামনে বিতর্কে জড়াবেন না। নিজেরা কথা বলুন।

৪. সন্তানের প্রশ্নের জবাব দিন: আপনি যদি আপনার সন্তানের প্রশ্নের জবাব না দেন, জবাবের জন্যে সে হয়তো খুঁজে নেবে এমন কাউকে বা এমন কিছুকে যার পরিণতি আপনার জন্যে অতটা সুখকর না-ও হতে পারে।

৫. জেনারেশন গ্যাপকে মিটিয়ে ফেলুন: সন্তানের সাথে জেনারেশন গ্যাপের একটা কারণ হলো বাবা-মায়েরা চান তারা তাদের ছোটবেলায় যেমন ছিলেন, সন্তানও ঠিক তেমন হবে। ফলে এই অবাস্তব প্রত্যাশার জন্যে সৃষ্টি হয় ভুল বোঝাবুঝি। কাজেই কিছু কিছু ব্যাপারে আপনাকে সহনশীল হতে হবে। সন্তানের চাহিদা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং পছন্দের সাথে আপনার চাহিদা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং পছন্দের একটা ভারসাম্য আনতে হবে।

৬. আপনার অপূর্ণ স্বপ্নের বাস্তবায়ন সন্তানের মধ্যে দেখতে যাবেন না: বাবা-মায়েরা অনেক সময় তাদের অপূর্ণ স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চান তার সন্তানের মধ্যে। ফলে সন্তানের জীবনের লক্ষ্য কী হবে তা তারাই ঠিক করে দেন সন্তানের চাওয়া বা সামর্থ্যের বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে। আর পরবর্তীতে তার মাশুল দিতে হয় সন্তানকেই। সে না পারে বাবা-মায়ের চাওয়া পূরণ করতে, না পারে নিজের মেধাকে বিকশিত করতে। কাজেই বেড়ে ওঠার একটি পর্যায়ের পরে তার সব ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে চিন্তা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের স্বাধীনতা দিন।

৭. সন্তানের আত্মমর্যাদাবোধকে নষ্ট করবেন না: শিশুদেরও যে আত্মমর্যাদাবোধ আছে এটা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। আমরা হয়তো অন্যের সামনে তাকে বকাবকি করি, ভুল ধরিয়ে দেই বা অপ্রস্তুত করি। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

৮. সন্তানকে তা-ই বলুন যা আপনি নিজেও পালন করেন: শিশুরা তাদের বাবা-মায়েরা কী বলছে সেটা নয়, কী করছে সেটাই অনুকরণ করে। কাজেই আপনার সন্তানকে এমন কিছু করতে বলবেন না যা আপনি নিজেই করেন না।

৯. ভুল করলে মাশুল পেতে দিন, প্রয়োজনে শাস্তি দিন: আপনার সন্তান যদি বোঝে যে আপনার কথা না শুনেও সে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাহলে সে অবাধ্য হতে উৎসাহ পাবে। তাই সারাক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি না করে শান্ত থাকুন, কিছু শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এ ব্যাপারে দৃঢ় হতে ভয় পাবেন না। কারণ সন্তান যদি বুঝতে পারে যে এই অবাধ্য হবার জন্যে তাকে শাস্তি পেতে হবে, তাহলে সে সাবধান হবে।

১০. একই কথা বার বার বলবেন না: একই কথা বার বার বললে তার গুরুত্ব কমে যায়। এর চেয়ে ১ বার বলুন। তাকে বুঝতে দিন না শোনার শাস্তি।

আরকে//

করোনাকালে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয়

অনলাইন ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২০ ১০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয়

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, কভিডের বাড়াবাড়ির মূলে প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসের হাত থাকে। তার ফলে অনেক রোগীই মারা যান। আর এই ব্যাপারটা দুশ্চিন্তার। কারণ, আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের প্রকোপ খুব বেশি। অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলে ৩০ পেরোতে না পেরোতেই বহু মানুষের কবলে পড়েন। কাজেই কভিড নিয়েও চিন্তা আমাদেরই বেশি।

কেন এমন হয়
হরমোন বিশেষজ্ঞ সতীনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একদিকে যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। অন্যদিকে, রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে বাড়ে কভিডের জটিলতাও। তার হাত ধরে আবার বাড়ে ডায়াবেটিসের জটিলতা। আর এইসব চক্রে ডায়াবেটিক কিটো অ্যাসিডোসিস বা ডিকেএ নামের সমস্যা একবার হয়ে গেলে কভিডের কারণে যেসব জটিল পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়, তা সামলানো কঠিন হয়ে যায়। অর্থাৎ বিপদের ওপর বিপদ।

ইদানীং আবার আরেকটা সমস্যা হচ্ছে। ডায়াবেটিসের এমন এক ওষুধ বাজারে এসেছে, যা খেলে সুগার স্বাভাবিক থেকে যায় বলে ডিকেএ হলেও অনেক সময় তা বোঝা যায় না বলে চিকিৎসা বিভ্রাটের আশঙ্কা থাকে। কাজেই ডায়াবেটিসের রোগী যদি এই ওষুধ খান, কভিডের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে আগেই তা ডাক্তারকে জানিয়ে দেবেন।

বিপদ সামলাতে যা করবেন
কভিডের সুরক্ষাবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, এটাই হলো আসল কথা। তার জন্য যা যা করা দরকার, করতে হবে সব। যেমন-

• রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে যেভাবে চলছিলেন, সেভাবেই চলুন।

• ব্যায়াম করুন। এতে ওজন-সুগার বশে থাকবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

•  জল খাওয়ার ব্যাপারে কার্পণ্য করবেন না। কারণ সুগারের কিছু ওষুধ আছে, যা খেলে পানি বেশি না খেলে সমস্যা হতে পারে।

•  ধূমপান করবেন না।

•  অনেক ডায়াবেটিক রোগীরই রক্তচাপ বেশি থাকে। না জেনে কোনো ওষুধ খাবেন না। এতে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। কারণ কোনো গাইডলাইনেই এখন পর্যন্ত বলা হয়নি যে, এই সব ওষুধ খেলে কভিডের আশঙ্কা বাড়ে।

• স্ট্রেস ম্যানেজ করার চেষ্টা করুন। না হলে সুগার যেমন বেড়ে যেতে পারে, কমতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

•  ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। কারণ, নানান ওষুধের নানান বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে সুগারের ওপর।

•  সুগার হঠাৎ বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

•  ডায়াবেটিক কিটো-অ্যাসিডোসিস হলে অনেক সময় শ্বাসকষ্ট হয়। সেটাকে কভিডের উপসর্গের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। যদিও ডিকেএ-ও যথেষ্ট বিপজ্জনক।

সূত্র: আনন্দবাজার 


Comments

Popular posts from this blog

Read Prophet Muhammad's ﷺ Last Words

 wmwitou14411@gmail.com Read Prophet Muhammad's  ﷺ Last Words Inbox Search for all messages with label Inbox Remove label Inbox from this conversation    IqraSense.com   via  aweber.com  Sat, Jan 13, 1:30 PM (2 days ago) to  me Muhammad Assalamu-Alaikum!   In today's article, you can read Prophet Muhammad's last words that he said before his death. Although there are a number of reports on this topic, none of them are as authentic and more agreed upon as the one mentioned in the article below. Please read and share with others as well.   Click to read Prophet Muhammad's Last Words Before His Death   Watch IqraSense Islamic Videos and Subscribe here   Please note that to continue to get notifications of new articles in the future, you must LIKE IqraSense on Facebook. That's where most of the content is now published.    With my best regards, Sarah B. IqraSense.com The Story of Islam, Muslims, and the Caliphat...

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর বাড়ি | The Birth of Prophet Muhammad (SAW)...

কুরআন পড়ার সময় ৩টি যায়গায় আয়াতে থামার সময় বড় ভুল করি _ ৩টি বড় ভুল ওয়াক্ব...